২০২০ সালের প্রথম চন্দ্রগ্রহণ আজ। দেখুন বিস্তারিত

Share:

২০২০ সালের প্রথম চন্দ্রগ্রহণ আজ। দেখুন বিস্তারিত

Lunar- eclipses
২৬ শে ডিসেম্বর ছিল ২০১৯ অর্থাৎ গত বছরের শেষ সূর্য গ্রহণ যেটা ভারতে ও বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে । বছর শুরুতে অর্থাৎ ২০২০ এ ১০ ই জানুয়ারী হলো বছরের প্রথম গ্রহণ। এই বছর ৬ টি গ্রহন হবে। এর মধ্যে চারটি চ্দ্র গ্রহণ এবং দুটি সূর্য গ্রহণ।
             ১০ই জানুয়ারি রাত ১০: ৩৭ নাগাদ চন্দ্র গ্রহন শুরু হবে এবং শেষ হবে প্রায় রাত ২:৩২ নাগাদ।আজ অর্থাৎ ১০ই জানুয়ারি হলো পৌষ মাসের পূর্ণিমা। পূর্ণিমা তে সব সময় চন্দ্রগ্রহণ হতে দেখা যায় ।
                  এই চন্দ্রগ্রহণ ভারত সহ এশিয়া ইউরোপ আফ্রিকা অস্ট্রেলিয়াতে দেখা যাবে।
                   আসুন জেনে নেই চন্দ্রগ্রহণ কি।বৈজ্ঞানিকদের মতে গ্রহণ নিতান্তই সাধারন ব্যাপার এতে কোন কিছু মানার বা কোন নিয়ম নিষ্ঠা পালন করার কোন প্রশ্নই ওঠে না। এটি একটি উপচ্ছায়া মাত্র।যখন চাঁদ ও সূর্যের মাঝখানে পৃথিবী আসে তখন তারা একই কক্ষপথে থাকে , যার ফলে সূর্যের আলো চাঁদের ওপর পরেনা আর পৃথিবীর বাইরের অংশের কিছুটা প্রভাব চাঁদের উপর পড়ে যার ফলে চাঁদকে খানিকটা অনুউজ্জ্বল দেখায়। এতে চাঁদের আকৃতি কোন পরিবর্তন হয়েছে কিনা সেটাও বোঝা যায় না।
Lunar-eclipses-2020
lunar-eclipse-2020-myths-and-facts
               কিন্তু শাস্ত্র অনেক কথা বলে।শাস্ত্র অনুযায়ী মানতে গেলে গ্রহণ একটি মারাত্মক ব্যাপার আর কোন কিছু শুভ না হলে আমরা কথাই কথাই বলে ফেলি ,"ওর এখন গ্রহণ চলছে" অর্থাৎ এটি একটি খুবই অশোভনীয় ব্যাপার। হিন্দু শাস্ত্র মতে যখন মোহিনী দেবতাদের মধ্যে অমৃত বিতরণ করছিলেন তখন ছদ্দবেশী রাহু কৌশলে অমৃত পান করে ফেলেন কিন্তু সূর্য এবং চন্দ্র দেবতা রাহুর এই কৌশল কে ধরে ফেলেন আর বিষ্ণু দেবতার সুদর্শন চক্র দিয়ে রাহুর গলা কেটে ফেলেন। তাই রাহুর গলার উপরে অংশটি অমরত্ব লাভ করে যার ফলে শরীরের নিচের অংশে কেতু এবং উপরের অংশকে বলা হয়। তারপর থেকেই প্রতিশোধ নিতে রাহু এবং কেতু  যুগ যুগ ধরে চন্দ্র এবং সূর্যকে বিরক্ত করে চলছে আর একেই শাস্ত্র অনুযায়ী গ্রহণ বলা হয়। আর তাই রাহু চন্দ্র ও সূর্যের মাঝখানে এসে আসে।
          আসুন এবার জেনে নেই হিন্দু শাস্ত্র মতে গ্রহণ চলাকালীন সময়ে কি কাজগুলি আমাদের জন্য শুভ আর কোন কাজগুলি শোভনীয় নয়
(১)   কারো কাছ থেকে টাকা ধার নেওয়া বা কাউকে টাকা ধার দেওয়া গ্রহণের সময় মোটেও শোভনীয় নয় বলে শাস্ত্রমতে মনে করা হয়।
(২)   কোন কিছু সেলাই করা রান্না করা পুজো করা কোনটাই শুভ নয় বলে মনে করা হয় হিন্দু শাস্ত্র মতে। কিন্তু মন চাইলে আপনারা মনে মনে ভগবানের নাম জপ করতে পারেন।
 (৩)  গ্রহণের সময় কোন নতুন কাপড় কিনা বা নতুন কোন কাজ শুরু করা থেকে বিরত থাকা দরকার বলে মনে করেন জ্যোতিষীরা কারণ সেই  সময় কোন শুভ কাজে শুভ ফল পাওয়া যায় না
(৪)  গ্রহণের সময় কোন কিছু খাওয়াটা একেবারেই অনুচিত যদিও এটা বৈজ্ঞানিক মেনে থাকে কারণ ওই সময় বাতাসের সঙ্গে বিক্রিয়া করে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া সৃষ্টি হতে পারে আর যা খাবারের সঙ্গে মিশে আমাদের পেটে গেলে শরীর খারাপ হতে পারে তাই গ্রহণ চলাকালীন সময়ে বা গ্রহণের কিছুক্ষণ আগে এবং কিছুক্ষণ পর পর্যন্ত কোন ধরনের খাদ্যদ্রব্য থেকে আমাদের দূরে থাকা দরকার এবং ঘরে যা বাসনপত্র আছে সব গুলোকে ভাল করে পরিষ্কার করে আহার গ্রহণ করা খুব প্রয়োজন.
(৫)  গ্রহণের দিন মাছ-মাংস কোন ধরনের আমিষ দ্রব্য গ্রহণ না করাই ভালো.
(৬)  গ্রহনের আগে যদি কোন কিছু রান্না করা থাকে আর এগুলি একেবারেই নষ্ট করা যাবে না বলে মনে করেন তাহলে গ্রহণ শুরু হওয়ার আগে খাবার গুলোতে তুলসী পাতা দিয়ে রাখবেন তাহলে জীবাণু খুব বেশি একটা জন্মাতে পারে না বলে মনে করেন জ্যোতিষীরা
          শাস্ত্র অনুযায়ী আরও বলা হয় যে যদি এই সময় মহা মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র বা হনুমান চল্লিশা বা যে যার আরাধ্য দেবতার জপ করেন তবে রাহু কেতুর কুদৃষ্টি থেকে রক্ষা  পাবেন।

          আসলে এই প্রচলিত নিয়মগুলো কতটা যুক্তিযুক্ত আর কতটাই বা মানা প্রয়োজন এটা আজও জানা যায়নি তবে চিরাচরিত প্রথা অনুযায়ী সবাই কিছু না কিছু মানার চেষ্টা করে আসছে যুগযুগান্তর ধরে।

কোন মন্তব্য নেই

Please dont enter any spam link in the comment box.

_M=1CODE.txt Displaying _M=1CODE.txt.