গুরু পূর্ণিমা কেন পালন করা হয়? জানুন এই অজানা কথাগুলো

Share:
রথযাত্রা , অম্বাবুচি, খার্চি পূজা এই অনুষ্ঠান গুলির পড়ে আসে গুরু পূর্ণিমা। প্রত্যেক বছর আষাঢ় মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এই বিশেষ অনুষ্ঠান পালিত হয় ।অনেকেরই মনে এই ধারণা জাগতে পারে যে গুরুর আরাধনার জন্য, ডাকার জন্য, কোন বিশেষ দিনে কেন প্রয়োজন?আমরা তো যে কোন দিনে করতে পারি। কথাটা কিন্তু চিরন্তন সত্য। তাহলে আসুন জেনে নেই কেন আষাঢ় মাসের শুক্ল পূর্ণিমা তিথিতে গুরু পূর্ণিমা পালন করা হয়?
Guru-purnima-2020
Guru-Purnima-2020

মানুষের জীবনে জন্মের পর থেকে তিনবার সে গুরুর আশ্রয়ে আশ্রিত হয়। জন্মের পর থেকে অর্থাৎ যখন সে ভূমিষ্ঠ হয় তারপর থেকেই পিতা-মাতা নামক গুরুর তাকে কোলে পিঠে করে বড় করে ।তারপর যখন সে একটু একটু করে বড় হয়ে ওঠে এবং পুঁথিগত বিদ্যার জন্য ধীরে ধীরে অগ্রসর হয় তখনই তাদের জীবনে আসে শিক্ষক নামে এক গুরু। যার ছায়া থেকে প্রত্যেকটা মানুষ তার জীবনের শিক্ষা  লাভ করে শিক্ষিত হতে থাকে। তার পরবর্তী সময় অর্থাৎ যৌবনকলে  প্রত্যেকটা মানুষই তার ইষ্ট দেবতার শরণাপন্ন হয় ।জীবনে যদি গুরুদেবের আশীর্বাদ না থাকে তাহলে কোন মানুষ এই সাফল্যের পথ ধরে রাখতে পারে না।

  

 আজ থেকে প্রায় ৩ হাজার বছর আগে ঋষি বেদব্যাসের জন্ম হয়। তিনি ছিলেন ঋষি পরাশরের পুত্র। আষাঢ় মাসের শুক্লা পূর্ণিমা তিথিতে একটি দ্বীপে তিনি জন্মলাভ করেন। ঋষি বেদব্যাসের আরেকটি নাম ছিল কৃষ্ণদ্বৈপায়ন।জন্মের সময় বেরোব সে গায়ের রং শ্যাম বর্ণ থাকায় উনাকে ঋষি কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন নামে অনেকে জানেন। হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ শ্রীমৎ  ভাগবত এর রচয়িতা হলেন ঋষি বেদব্যাস।
ঋষি বেদব্যাস ছিলেন মহা পন্ডিত। তার পান্ডিত্যের জন্য তিনি সারাবিশ্বে প্রসিদ্ধ হয়েছিলেন।

 অতীত ,বর্তমান , ভূত ভবিষ্যৎ,চন্দ্র,সূর্য,নক্ষত্র,গীতা,
মহাভারত সবকিছু সম্পর্কে তার পাণ্ডিত্য ছিল সবার উপরে। তিনি প্রায় ৬০ লক্ষ  শ্লোকের  রচনা করেছিলেন। যদিও এই লক্ষাধিক শ্লোকের মধ্যে মাত্র ১ লক্ষ শ্লোক মর্ত্যলোকের জন্য ছিল। ৩০ লক্ষ শ্লোকের সংহিতা শুধুমাত্র দেব লোকের জন্যই ছিল। ১৫ লক্ষ শ্লোকের সংহিতা প্রচারিত হয়েছিল পিত্রি লোকের জন্য। আর বাকি ১৪ লক্ষ শ্লোক এর সংহিতা রচিত হয়েছিল অক্ষ লোকের জন্য।

অষ্ট চিরঞ্জীবী মধ্যে একজন ছিলেন মহর্ষি বেদব্যাস। তিনি জগতের গুরু। তিনি যেহেতু এই শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে বিশ্বে আবির্ভাব হয়েছিলেন তাই এই দিনটিকে গুরু পূর্ণিমা হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে।


২০২০ এর গুরু পূর্ণিমার দিনক্ষণ


এবার আসুন জেনে নেওয়া যাক ২০২০ সালে গুরু পূর্ণিমার সময়সূচি। পূর্ণিমা শুরু হবে ৪ জুলাই ২০ শনিবার। এই দিন বেলা প্রায় ১১ টার পর থেকে শুরু করে পরের দিন ৫ ই জুলাই অর্থাৎ রবিবার দশটা ৫ পর্যন্ত এই পূর্ণিমা তিথি থাকবে।

এই গুরু পূর্ণিমার বিশেষ তিথিতে যে যার ইস্ট দেবতার আরাধনা  করে।পরমেশ্বর শিব ঠাকুরের পূজা ও কেউ কেউ করে থাকেন।আবার কেউ কেউ শ্রী কৃষ্ণের আরাধনা করেন।এই দিনটির মূল বিশেষত্ব হলো জগতের সকল মানুষ গুরুদেবের শরণাপন্ন হওয়া।


 লাল ফুল ছাড়া অন্য যে কোনো ফুল দিয়ে পূজা করা যেতে পারে।তবে সাদা ফুল আর হলুদ ফুল দিয়ে পূজা করাটা বেশি ভালো বলে প্রাচীন কাল থেকে কথিত আছে। ঠাকুর কে ঐদিন চিনি ছাড়া অর্থাৎ মিছরি দিয়ে ক্ষির বানিয়ে ভোগ দিলে ও শুভ বলে কথিত আছে।

তাহলে চলুন সবাই মিলে গুরু পূর্ণিমার পূন্য তিথিতে সবাই গুরুদেবের শরণাপন্ন হয়ে ,নিজের জন্য সমস্ত মানব জাতির জন্য আরাধনা করি।

কোন মন্তব্য নেই

Please share your opinion

_M=1CODE.txt Displaying _M=1CODE.txt.