তিনদিনের সময়সীমা শেষ, মুখ খুললেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব

Share:
সাংবাদিকদের দেওয়া তিনদিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পরে, আজ মুখ খুললেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। এক সাক্ষাৎকারে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, সাবরুম এর সমাবেশে তিনি এক দুজন কে উপলক্ষ করে বলেছেন কথাগুলো। উনি বলতে চেয়েছেন ত্রিপুরা মানুষকে বিভ্রান্ত না করার জন্য, সঠিক বিষয়টা সামনে নিয়ে আসার জন্য। আজ যে ভাবে  মানুষগুলোকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, মানুষ ভয়ে হাসপাতাল আসতে চায়না।

মুখ্যমন্ত্রীর সমীক্ষা অনুসারে অনেকেই ঘরেই কোয়ারেন্টিনে আছে কিন্তু বলছে না, অবস্থা খারাপ হলে ঘরের বাইরে আসছে। চন্দ্রপুর কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে একজন মারা গেছে, অথচ পুরো জেলা থেকে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।মানুষ ঘরে থেকে চিকিৎসা করাচ্ছে । যখন অবস্থা খুবই শোচনীয় জটিল তখনই ডাক্তার দের কে জানানো হয়েছে।

জোরজবরদস্তি কিছু করা যাবে না। সরকার ১২ হাজার কর্মীকে মানুষের বাড়ি বাড়ি পাঠিয়ে ছিল। তখনও মানুষ এ ব ব্যাপারে বলেনি। প্রথম দিন প্রায় ২৪ টি জায়গায় স্বাস্থ্যকর্মীদের বাধা দেওয়া হয়, কি কারনে এবং কিভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে , তা ত্রিপুরার মানুষ অবগত আছেন। মানুষ সময় মতো ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ না করে এবং শেষ মুহূর্ত অ্যাম্বুলেন্স কে ডেকে আনা হচ্ছে। এখনো পর্যন্ত ৩ জন রোগী আছেন যারা রাস্তাতে মারা গেছেন। যদি ভয় না পেয়ে এই রোগীরা সময়মতো নিকটবর্তী স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চলে যেত, তাহলে আজকে সবাই মুখ্যমন্ত্রী পাশেই থাকতো।

সংবাদপত্রের দায়িত্ব আছে সরকারের ভুল ত্রুটি গুলি তুলে ধরা। আমাদেরকে যা ইনফ্রাস্ট্রাকচার আছে তার মধ্য দিয়ে আমাদের লোকগুলো বাঁচাতে হবে। এটা একটা সংকটকালীন পরিস্থিতি, এই সময় সবকিছু ঠিক হবে এমন নয়। সাংবাদিক, উকিল, সাধারণ মানুষ, সবার প্রতি মুখ্যমন্ত্রী দায়িত্ব আছে।

এক সময় মানুষ বলতো করোনা কে মোকাবেলা করবো, সেখানে আজকে অনেক ভয় পেয়ে গেছে। এতদিন সরকার করনার বিরুদ্ধে একটি আক্রমনাত্মক ভূমিকা নিয়ে চলছিল এবং স্বাস্থ্য বিভাগকে শক্তিশালী করার চেষ্টা চলছিল। চাইলে প্রয়োজনীয় তথ্য হাইকোর্টের সামনে এবং ত্রিপুরার জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।
অভিভাবক হিসেবে উনি বলেছেন যদি ত্রিপুরা মানুষকে বিভ্রান্ত করা হয় তাহলে মাফ করবেন না। সঙ্গে প্রশ্ন করেছেন ,যদি কেউ আপনার পরিবারকে বিভ্রান্ত করে, তাহলে আপনি কি তাকে মাফ করবেন?
ত্রিপুরার মানুষ পুরো ত্রিপুরার দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছেন, তা যে কেউ যেকোনো দল বা মতের হতে পারে। আমার কাজটি হল ত্রিপুরার মানুষের মনে সাহস যোগানো। যেদিন ত্রিপুরার জিবি হাসপাতালে প্রথম করোনার রোগী নিয়ে যাওয়া হয় তখন পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ ছিল। মানুষ জিবি হাসপাতাল নয়, জিবি বাজারে যেতে ও ভয় পাচ্ছিল। তখন মানুষকে সাহস দিতে মুখ্যমন্ত্রী এগিয়ে গিয়ে প্রায় দুই ঘন্টা হাসপাতালে  বসেছিলেন। সমাজকে বার্তা দেবার জন্য যে, না! করোনা রোগীদের আশেপাশে গেলে কোন অসুবিধা হয় না।

 আমি চাইছি ত্রিপুরার মানুষ সচেতন থাকুক , সাবধান থাকুক, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুক, কিন্তু করোনাকে ভয় না পাক।মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ত্রিপুরাবাসীই জয়ী হবে। কেননা ত্রিপুরা বাসির মানসিক শক্তি অনেক বেশি। আর যারা এই মানসিক শক্তি দুর্বল করার চেষ্টা করবে আমি তাদের কিভাবে মাফ করবো?

সাবরুম এক সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব সংবাদপত্রকে মাফ না করার কথা বলার পরেই ত্রিপুরার দুটি ভিন্ন জায়গায় দুজন সাংবাদিকঃ নিগৃত হয়।অনেকেই সেই নিগৃহীত করাকে মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণের সাথে জুড়ে দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র বিরোধিতা করে প্রচার চালায়। এমনকি জাতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলি এই ঘটনা জোরালো ভাবে প্রচার করা হয়। আগরতলা প্রেসক্লাবে সমস্ত  সাংবাদিকরা এক সভায সমবেত হয়ে, একজোট হয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন। মুখ্যমন্ত্রীর বয়ানের ব্যাখ্যা চেয়েছে তিনদিনের সময়সীমা বেঁধে দেন, না হলে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী্‌ রাজ্যপাল এবং মানবাধিকার কমিশনের কাছে এ ব্যাপারটি তুলে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
মুখ্যমন্ত্রী আজকে পরিষ্কার করে বললেন ,কেন তিনি এই কথা বললেন এবং উনি কি বলতে চাইছিলেন?

গুরুত্বপূর্ণ খবর বিনামূল্যে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন, আর প্রতিদিন পড়ুন আনন্দবাজার পত্রিকা টুডে.কম।

কোন মন্তব্য নেই

Please share your opinion

_M=1CODE.txt Displaying _M=1CODE.txt.