ওয়ার্ল্ড সুইসাইড প্রিভেনশন ডে ২০২০ কেন পালন করা হয়?

Share:
প্রত্যেকটা দিনই স্পেশাল। হয়তো আমার জন্য নয়তো আপনার জন্য ।মাদারস ডে, ফ্রেন্ডশিপ ডে, চকলেট ডে ইত্যাদি ইত্যাদি। যেগুলি হয়তো সবারই জানা। আগামীকাল অর্থাৎ দশ ই সেপ্টেম্বর এমন একটা দিন, যে দিনটা আমরা অনেকেই জানিনা। আর সেটা হল ওয়ার্ল্ড সুইসাইড প্রিভেনশন ডে।অর্থাৎ কিভাবে সুইসাইড থেকে আমাদের সমাজকে রক্ষা করা যায় । অন্যান্য দিনগুলোর মতো এই সুইসাইড প্রিভেনশন ডে ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। আসুন তাহলে জেনে নেই কেন লোক সুইসাইড করে, কি করে এই সুইসাইড নামক ভয়ানক ব্যাধি থেকে সমাজকে, পরিজনকে পরিবারকে রক্ষা করা যায় এই সমস্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
world-suicide-prevention-day


সুইসাইড অর্থাৎ আত্মহত্যা এটি একটি ভয়ানক ব্যাধি। জ্বর সর্দি কাশি এমনকি ক্যান্সারের মতো বড় বড় রোগ ও আমরা ঔষধে সারাতে সক্ষম হয়েছি কিন্তু এই আত্মহত্যার প্রবণতা টা যদি কারোর মধ্যে একবার ঢুকে যায় সেটা থেকে ওই ব্যক্তিকে বের করে আনা কতটা অসম্ভব সেটা হয়তো বলে বোঝানো সম্ভব হবে না। বিভিন্ন কারণে মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। 

কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনেক ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে তখন ও আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। এখনতো কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা তা অনেকটাই বেড়ে গেছে। বিশেষ করে কোন পরীক্ষার ফলাফল যদি আশানুরূপ না হয় তখনো এই বয়সের ছেলেমেয়েরা আত্মহত্যার করাটাই ভালো মনে করে।হতাশাগ্রস্ত হয়েও অনেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় কারোর কোন পছন্দের মানুষ দূরে সরে গেলে বা পছন্দের জিনিস না পেলে এই ধরনের পথ বেছে নেয়। আত্মহত্যার বিভিন্ন জনের বিভিন্ন ধরনের কারণ থাকতে পারে ।


এই বাড়ি ছেলেটা বা মেয়েটা সুইসাইড করেছে এই কথা না বলে কিভাবে এই সুইসাইড নামক মারাত্মক ব্যাধি থেকে সমাজকে রক্ষা করা যায় সেটা নিয়ে আলোচনা করাটা খুবই দরকার।


অনেক মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন যে ডিপ্রেশন থেকে মানুষ সুসাইড করে।আর ডিপ্রেশন কোন বর্তমান পরিস্থিতি থেকে সৃষ্টি হয় না। ডিপ্রেশন শুরু হল অতীত কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে। তাই আমাদের উচিত অতীত টাকে অতীতের মধ্যে রাখতে, কারোর অতীত যদি বর্তমানকে নষ্ট করে তাহলে সেই অতীতটাকে বারবার মনে আনা ঠিক না।

আবার অনেকে বলে থাকেন যে মেডিটেশনের ফলে ডিপ্রেশন থেকে অনেকটা বেরিয়ে আসা যায় কিন্তু সেটাও পুরোপুরি ঠিক বলা যায় না। কারণ মেডিটেশন করলে বর্তমান যে পরিস্থিতি ওই ব্যক্তির মনে চলছে সেটা থেকে অনেকটা রেহাই পাওয়া যায় কিন্তু কারোর অতীত বা ভবিষ্যৎ কোনটাই মেডিটেশন থেকে ঠিক হয় না।

সে ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি যদি ততটাই হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে তবে তাকে অতিসত্বর কোন মনোবিজ্ঞানীর সঙ্গে যোগাযোগ করাটাই বুদ্ধিমত্তার কাজ। কারন আজকাল চিকিৎসাব্যবস্থা র সাহায্য নিয়ে এই হতাশা জনিত রোগ থেকে রেহাই পাওয়া মুশকিল হলেও সম্ভব তবে। নিজেরও কিছু প্রচেষ্টা থাকতেই হবে।

কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের তাদের ছেলেমেয়েদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করতে হবে। যদিও বাবারা সন্তানের ভালোর জন্য বকাবকি করে থাকেন, তারপরও এই বিষয়টার উপর নজর দেওয়া তাদের ও কর্তব্য। কোন ছাত্রর যদি পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হয়, এমনিতেই তো ওই ছাত্র বা ছাত্রী হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তারপর যদি অভিভাবকরা বকাবকি শুরু করে সে ক্ষেত্রে অনেকেই হতাশাগ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

অনেক মনোবিজ্ঞানীরা আবার বলে থাকে যদি কেউ  তাকে তার হবি অর্থাৎ যে জিনিসটা করতে তার ভালো লাগে সেটা দিকে মনোনিবেশ করা দরকার ওই সময় সে তার যে খারাপ সময় গুলো ছিল বা চলছে সেগুলো থেকে অনেকটাই দূরে থাকতে সক্ষম হবে। আবারহতাশা দূর করার জন্য অনেকে মোবাইলের গেম খেলা টা কেউ প্রাধান্য দিয়ে থাকে। যদিও এতে কিছুটা সময় নষ্ট হবে তাতেও যদি একটা প্রাণ বেঁচে যায় তাহলে সেই সময় টা নিশ্চয় বড় কিছু হবে না।

আসুন জেনে নেই ২০১৯ এ ভারতে আত্মহত্যা পরিসংখ্যান। এনসিআরবি অর্থাৎ ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৪২ হাজার ৪৮০ জন কৃষক আত্মহত্যা করেছে ২০১৯ সালে। ২০১৮ সালের তুলনায় আত্মহত্যার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে ৬ % । ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে কৃষকদের আত্মহত্যার পরিমাণটা কিছুটা কমলেও দিনমজুরদের আত্মহত্যার পরিসংখ্যান বেড়েছে প্রায় ৮ শতাংশ। যে পরিমাণে কৃষকরা এবং দিনমজুরেরা আত্মহত্যা করছে সেই পথ থেকে তাদেরকে সরিয়ে আনার জন্য সরকারের অবশ্যই দৃষ্টিপাত করা উচিত। কারণ তাদের কাছে এত টাকা পয়সাও নেই যে কোন মনোবিজ্ঞানের পরামর্শ নিয়ে সেই প্রবণতার দূর করতে পারবে। আর যদি কারোর টাকা-পয়সার কারণে সেই পথ বেছে নেই সেটা থেকে কোন ডাক্তার ই তাদেরকে সাহায্য করতে পারবে না।


এনসিআরবি তথ্য অনুযায়ী প্রতি বছরই আত্মহত্যার পরিমাণ ভারতবর্ষে বেড়েই চলছে । ২০১৮ সালে যেখানে ভারতবর্ষে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছিল ১৩৪৫১৬ জন। সেখানে ২০১৯ সালে এর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩৯১২৩ জন। আর এদের মধ্যে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা সংখ্যায় সবচাইতে বে শি। আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে ৫৩ দশমিক 6 শতাংশ মানুষ গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ, আর জলে ডুবে আত্মহত্যা করেছে ৫ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ।

এত বিপুলসংখ্যক আত্মহত্যার পিছনে উঠে এসেছে যে তথ্যটি সেটি হল অধিকাংশই আত্মহত্যা করেছে পারিবারিক অশান্তির কারণে। মোট আত্মহত্যার ৩২ দশমিক ৪ শতাংশ আত্মহত্যার ঘটনার পেছনের কারণ হচ্ছে পারিবারিক অশান্তি। দাম্পত্য জীবনে সুখী না থাকার পেছনে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ আত্মহত্যা করেছে বলে এনসিআরবি রিপোর্ট থেকে জানা যায়।

ভারতে প্রতিদিন বেকারত্বের জ্বালায় ৩৮ জন বেকার আত্মহত্যা করছে। এসমস্ত আত্মহত্যার পেছনে ভারতবর্ষের কোমর ভাঙ্গা রাজনীতিকে দায়ী করতে বাধ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

আত্মহত্যা বা সুইসাইড কোন সাধারণ রোগ নয়, এই ভয়ানক রোগ থেকে মুক্তি পেতে একে অপরের পাশে এসে দাঁড়ানোটাই মানবিকতার পরিচয়। তাই সচেতন করাই ওয়ার্ল্ড সুইসাইড প্রিভেনশন ডে  ২০২০ উদ্দেশ্য।

কোন মন্তব্য নেই

Please share your opinion

_M=1CODE.txt Displaying _M=1CODE.txt.