শচীন দেব বর্মন কেন ত্রিপুরার গর্ব

Share:

 আজ ১লা অক্টোবর ২০, রাজ্যে পালিত হচ্ছে প্রয়াতঃ ত্রিপুরার জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী শচীন দেব বর্মনের জন্মদিন। এই উপলক্ষে ত্রিপুরা সরকারের তথ্য ,সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে এক  অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় আগরতলার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে। 

Sachin_deb_barman

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব এবং শচীন কর্তার আবক্ষ মূর্তি মাল্যদান করেন।


১৯০৬ সালে পয়লা অক্টোবর নিরুপমা দেবীর কোল আলো করে ত্রিপুরার রাজবংশে জন্ম নেন বিখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী শচীন দেব বর্মন। উনার পিতার নাম ছিল নবদ্বীপ দেব। ছোটবেলা থেকেই বাউলিয়ানা পিতার হাত ধরে উনার সংগীত জগতে যাত্রা শুরু হয়। তবে খুব ছোটবেলায় অন্য আর পাঁচটা ছেলেদের মতনই যখন তিনি মাঠে খেলছিলেন তখন এক বৃদ্ধ কৃষকের  গাওয়া লোকগীতি পাল্টে দেয় শচীন কর্তার জীবন। শচীন কর্তার সঙ্গে ধীরে ধীরে ওই গানটি যৌবনতা পেতে থাকে।


কুমিল্লায় কলেজে পড়া শেষ করে তিনি কলকাতায়  এম এ তে ভর্তি হন কিন্তু সংগীতের প্রতি তার অগাধ ইচ্ছা থাকায় মাঝপথেই পড়া ছেড়ে দিয়ে তিনি তখনকার সময়ে বিখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী শ্রী কৃষ্ণচন্দ্র দের শরণাপন্ন হন। সংগীত জগতে যাত্রা শুরু করে তিনি ওস্তাদ ফারইজ খান, ওস্তাদ আলাউদ্দিন খান, ওস্তাদ করিম খানের মতো শিল্পী দের কাছ থেকে তালিম নেন। 


সংগীতের প্রতি ওনার এত টাই শ্রদ্ধা ভালোবাসা ছিল যে শিক্ষার জন্য তিনি তার রাজমহলের চাকরদের কাছেও যেতেন। তিনি মহলের কাজের লোক মাধবের কাছ থেকে কীর্তন শিখেছিলেন। আর আনোয়ার এর কাছ থেকে ভাটিয়ালি গান।


সংগীত জগতে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে শচীন কর্তার  ছাত্রী কে বিবাহ করেন। উনার স্ত্রীর নাম ছিল মীরা দাশগুপ্ত।১৯৩৯ সালে ওনাদের ঘর আলো করে জন্ম নেয় পুত্র পঞ্চম। তিনি পরবর্তীকালে রাহুল দেব বর্মন নামে বিশ্বজগতের পরিচিতি লাভ করে।

১৯৪৪ সালে পশ্চিমবাংলা ছেড়ে হিন্দি গানের জগতে পা রাখেন শচীন কর্তা। বহু হিন্দি স্বর্ণালী সিনেমায় তার নাম এখনো জড়িয়ে আছে স্বমহিমায়।

 ১৯৪৯ সালে ট্যাক্সি ড্রাইভার,১৯৭৩ সালে অভিমান চলচ্চিত্রের জন্য তিনি পুরস্কার পান। আরধনা তে গায়ক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।


 এই কিংবদন্তি গায়ক উনার অসাধারণ পান্ডিত্যের জন্য ১৯৬৯ সালে পদ্মশ্রী পুরস্কার লাভ করেন।

শচীন কর্তার জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে ছিল।


বাঁশি শুনে আর কাজ নাই।

তুমি আর নেই যে তুমি।

তোরা কে যাস রে ভাটির নাও বাইয়া।

ঘাটে লাগাইয়া ডিঙা।


ওনার সব কটা গানি এতটা জনপ্রিয় ছিল যে আজও সবার মনে দোলা জাগায়।এই বিখ্যাত সঙ্গীতকার ,সঙ্গীতশিল্পী ,সংগীত রচয়িতা ১৯৭৫ সালের ৩১ শে অক্টোবর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তবে বুঝতে পারছেন, কেন উনার কথা সারা ভারতবর্ষে তথা ত্রিপুরাবাসী এত গর্বের সঙ্গে বলেন।

কোন মন্তব্য নেই

Please share your opinion

_M=1CODE.txt Displaying _M=1CODE.txt.