তালিবানদের মারধরের শিকার সাংবাদিক থেকে মানবাধিকার কর্মী সকলেই।

Share:
দিব্যেন্দু গোস্বামী: তালিবানরা কাবুল দখল করার পরই সাংবাদিক এবং মানবাধিকার কমিশনের যে সমস্ত সদস্য রয়েছে তাদের ওপর শুরু করেছে অমানুষিক অত্যাচার। যেখানে সত্যিই উদ্ঘাটন হবে বলে তাঁরা মনে করছেন সেখানে বাধা দিচ্ছেন। মহিলা কিংবা পুরুষ কাউকেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। সাংবাদিক এবং মানবাধিকার কর্মীদের ওপর তালিবানি অত্যাচারের বিরাম এখনও ঘটেনি। সপ্তাহের পর সপ্তাহ কেটে গেলেও তালিবানরা এখনো ক্ষিপ্ত সংবাদমাধ্যমের ওপর। ক্ষিপ্ত রয়েছেন মানবাধিকার কমিশনের ব্যক্তিদের ওপরেও। 

গত কয়েকদিন আগে মানবাধিকার কর্মী তথা মহিলা সাংবাদিক সাইরা সালিম সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছিলেন তালিবানরা তাকে মারার জন্য ওত পেতে বসে আছে। কারণ তার দোষ তিনি তালিবানদের আসল চেহেরা তুলে ধরেছিলেন। তাই তার খোঁজে রয়েছে তালিবানের জঙ্গীরা। রাত্রি হলে তার বাড়িতে হানা দিচ্ছে তালিবানের লোকেরা। বন্দুক হাতে মুখে কাপড় জড়িয়ে তার বাড়িতে বাড়িতে হাজির হচ্ছে কয়েকজন তালিবানি। সাইরার বক্তব্য চার দিন আগে আমার বাড়িতে হানা দিয়েছিল গোটা ছয়েক তালিবানি জঙ্গি। তারা দরজা ধাক্কা দিতে শুরু করলে আমি কোন ক্রমে খাটের নিচে চলে যায়। তারা আমাকে দেখতে পাইনি। বাড়ির লোকেদের সঙ্গে কথা বলে বাইরে বেরিয়ে যায় তারা ।এবং বলে যায় সংবাদমাধ্যমে তালিবানদের নিয়ে যদি সত্যি ঘটনা তুলে ধরা হয় তাহলে খুন করা হবে সাইরার কে।

 অন্যদিকে তালিবানের অত্যাচারের শিকার আরো এক মানবাধিকারকর্মী যার নাম হাবিবুল্লাহ। আফগানিস্থানে তিনি একজন গণ্যমান্য মানবাধিকার কর্মী। তার পরিচয় জানা যায় তিনি দিল্লিতে সার্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন পিএইচডি স্কলার। কাবুলের রাস্তায় মহিলাদের অধিকার নিয়ে তিনি যখন বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেছিলেন তখন তাকে লক্ষ্য করেন তালিবানরা। তার এই কাজের জন্য পাকড়াও করে তালিবানরা তাকে হাত পা বেঁধে যথেচ্ছ অত্যাচার করা হয় বলে অভিযোগ ।

তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তার হাত ভেঙে দেওয়া হয়। শরীরের মধ্যে বেত্রাঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তালিবানরা জানিয়েছে হাবিবুল্লাহ ইসলামের বিরুদ্ধে কাজ করছে তাই তিনি বিধর্মী। তাকে খুন করার অধিকার তাদের রয়েছে। পরবর্তীকালে হাবিবুল্লাহ কে যখন অন্য আরেকটি ঘরে নিয়ে যাওয়া হয় তখন সেখানে দেখা যায় তার মতনই অনেক সাংবাদিক এবং বিক্ষুব্ধ আফগানদের সেখানে রাখা হয়েছে ।

আফগান জঙ্গিবিরোধী অনেক সাংবাদিককেই আটকে রাখা হয়েছে সেখানে। আফগানিস্থানে আফগানরা কাবুল দখল করার পর এই ভাবেই তারা সাংবাদিক এবং মানবাধিকার কমিশনের লোকেদের ওপর অত্যাচার চালাচ্ছে তার বিরাম আজও হয়নি। কবে থামবে এই ধরনের নির্মম অত্যাচার তা একপ্রকার ঈশ্বর জানেন বলে অভিহিত তিনি।


কোন মন্তব্য নেই

Please dont enter any spam link in the comment box.

_M=1CODE.txt Displaying _M=1CODE.txt.